কিবলার সূত্র: বৃহৎ বৃত্তের হিসাব ধাপে ধাপে

কিবলা মাপা হয় না, হিসাব করা হয় — এবং সেই হিসাব গোপন কিছু নয়। এই লেখায় এই সাইটে ব্যবহৃত সূত্রটি তুলে ধরা হয়েছে, কেন সেটিই সঠিক তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এবং ঢাকার জন্য সম্পূর্ণ উদাহরণ দেওয়া হয়েছে যাতে আপনি বৈজ্ঞানিক ক্যালকুলেটরে নিজে মিলিয়ে নিতে পারেন।

গন্তব্যের স্থানাঙ্ক

কাবা ২১.৪২২৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৩৯.৮২৬২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। পৃথিবীর সব কিবলা হিসাব এই দুটি সংখ্যা থেকেই শুরু হয়। বিভিন্ন উৎসে শেষ দশমিকের সামান্য পার্থক্য ব্যবহারিকভাবে অর্থহীন, কারণ মক্কায় কয়েক মিটারের সরণ ডিগ্রির এমন ভগ্নাংশের সমান যা কোনো যন্ত্রের নাগালেই আসে না।

মানচিত্রের সরলরেখা কেন নয়

গোলকের উপর দুটি বিন্দুর মধ্যে সংক্ষিপ্ততম পথ হলো বৃহৎ বৃত্তের চাপ, অর্থাৎ যে বৃত্তের কেন্দ্র গোলকের কেন্দ্রেই। সমতল মানচিত্র কিছু না কিছু বিকৃত না করে সেই পথকে সরলরেখা হিসেবে দেখাতে পারে না। প্রচলিত মার্কেটর মানচিত্র স্থানীয় আকৃতি রক্ষা করে কিন্তু দূরপাল্লার দিক নষ্ট করে। এ কারণেই ইন্দোনেশিয়া থেকে কিবলা পশ্চিম নয় বরং উত্তর-পশ্চিমে পড়ে, যদিও মানচিত্রে মক্কা সোজা পশ্চিমে দেখায়।

সূত্রটি

আপনার অবস্থান থেকে কাবার দিকে প্রারম্ভিক দিক বের হয় এভাবে: কোণ সমান আর্কট্যানজেন্ট, যেখানে লব হলো দ্রাঘিমাংশ পার্থক্যের সাইন, আর হর হলো আপনার অক্ষাংশের কোসাইন গুণ কাবার অক্ষাংশের ট্যানজেন্ট, বিয়োগ আপনার অক্ষাংশের সাইন গুণ দ্রাঘিমাংশ পার্থক্যের কোসাইন। দ্রাঘিমাংশ পার্থক্য মানে কাবার দ্রাঘিমাংশ বিয়োগ আপনার দ্রাঘিমাংশ। ফল ডিগ্রিতে রূপান্তর করুন, ঋণাত্মক হলে ৩৬০ যোগ করে শূন্য থেকে ৩৬০-এর মধ্যে আনুন। দুই আর্গুমেন্টের আর্কট্যানজেন্ট ব্যবহার করুন যাতে চতুর্ভাগ ঠিক থাকে — নিজে হিসাব করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি এই ভুলটিই হয়।

উদাহরণ: ঢাকা

ঢাকা প্রায় ২৩.৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। দ্রাঘিমাংশ পার্থক্য ৩৯.৮২৬২ বিয়োগ ৯০.৪, অর্থাৎ প্রায় ঋণাত্মক ৫০.৬ ডিগ্রি — ঋণাত্মক চিহ্নটি জানায় কাবা পশ্চিম দিকে। সংখ্যাগুলো বসালে ফল আসে ২৭৮ ডিগ্রির কাছাকাছি, আর এই সংখ্যাটিই আমাদের ঢাকার কিবলা পাতায় দেখানো হয়। অন্য শহরের জন্যও পুনরাবৃত্তি করতে পারেন: চট্টগ্রাম ২৭৯, সিলেট ২৭৭, রাজশাহী ২৭৬, রংপুর ২৭৫।

দূরত্বের হিসাব

ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হ্যাভারসাইন সূত্র দিয়ে পৃথিবীর পৃষ্ঠ বরাবর দূরত্বও বের করা যায়। ঢাকা থেকে কাবা ৫,১৭২ কিলোমিটার, রাজশাহী থেকে ৪,৯৮২, রংপুর থেকে ৫,০৩১, খুলনা থেকে ৫,১০২, চট্টগ্রাম থেকে ৫,৩৩৯ এবং কক্সবাজার থেকে ৫,৩৭৫ কিলোমিটার। অর্থাৎ বাংলাদেশের পশ্চিম প্রান্ত কাবার সবচেয়ে কাছে, যা প্রত্যাশিতই।

বিভিন্ন সাইটে সামান্য পার্থক্য কেন

কিছু উৎস পৃথিবীকে নিখুঁত গোলক ধরে, আবার কিছু উৎস মেরুতে সামান্য চাপা উপবৃত্তাকার ধরে। কিবলা হিসাবে দুটির পার্থক্য সাধারণত আধা ডিগ্রির কম, যা মেঝেতে রেখা টানার সময় অর্জনযোগ্য নির্ভুলতার চেয়েও কম। তাই দুটি সাইট যদি ২৭৭ ও ২৭৮ দেখায়, দুটিই ব্যবহারিকভাবে সঠিক। প্রশ্ন ওঠে তখনই যখন পার্থক্য কয়েক ডিগ্রি, কারণ সাধারণত তার মানে কেউ সমতল মানচিত্রের পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।

→ কিবলার দিক — লাইভ কিবলা কম্পাস