আসরের সময়: এক ছায়া না দুই ছায়া

পাঁচ ওয়াক্তের মধ্যে আসরই একমাত্র, যেখানে দুটি সমান বৈধ সময়সূচির মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টার পার্থক্য থাকতে পারে। কারণ কোণ নয়, সতর্কতার মার্জিনও নয় — কারণ ছায়া মাপার পদ্ধতি।

দুটি পরিমাপ

আসরের সময় নির্ধারিত হয় খাড়া কোনো বস্তুর ছায়ার দৈর্ঘ্য দিয়ে। মাপা শুরু হয় দ্বিপ্রহরের ছায়া থেকে, যাকে মূল ছায়া বলে। হানাফি মাজহাবে আসর শুরু হয় যখন ছায়া মূল ছায়ার অতিরিক্ত দ্বিগুণ হয়। শাফিয়ি, মালিকি ও হাম্বলি মাজহাবে এক গুণ হলেই আসর শুরু হয়। দুটিই একই বর্ণনার ব্যাখ্যা, ভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।

বাংলাদেশে পার্থক্য কত

আমরা ২০২৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির জন্য হিসাব করেছি। ঢাকায় এক গুণ পরিমাপে আসর হয় বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে এবং দ্বিগুণ পরিমাপে ৪টা ১৪ মিনিটে — আটচল্লিশ মিনিটের পার্থক্য। চট্টগ্রামে ৩টা ২২ ও ৪টা ১০, সিলেটে ৩টা ১৯ ও ৪টা ৬, রাজশাহীতে ৩টা ৩৩ ও ৪টা ২০। গ্রীষ্মে পার্থক্য বাড়ে: ২১ জুন ঢাকায় এক গুণে ৩টা ১৮ এবং দ্বিগুণে ৪টা ৪১, অর্থাৎ তিরাশি মিনিট।

পার্থক্য ঋতুভেদে বদলায় কেন

ছায়ার দৈর্ঘ্য নির্ভর করে সূর্যের উচ্চতার উপর, আর সূর্যের উচ্চতা বদলায় ঋতু ও অক্ষাংশ অনুসারে। দ্বিপ্রহরে সূর্য যত উঁচুতে থাকে, মূল ছায়া তত ছোট হয় এবং বিকেলে ছায়া তত দ্রুত বাড়ে। তাই গ্রীষ্মে দুই পরিমাপের ব্যবধান বড় হয়, শীতে ছোট।

বাংলাদেশে কোনটি ব্যবহৃত হয়

বাংলাদেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা হানাফি, এবং প্রচলিত সময়সূচিগুলো দ্বিগুণ পরিমাপে তৈরি। তাই আমাদের হিসাবও বাংলাদেশের জন্য দ্বিগুণ পরিমাপ ব্যবহার করে, যাতে মসজিদে টাঙানো সময়সূচির সঙ্গে মেলে। পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও রাশিয়াতেও একই। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া, মিশর, মরক্কো ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে এক গুণ ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি দেশের পাতায় আসরের ছায়ার সারিতে এটি স্পষ্টভাবে লেখা থাকে।

তুরস্ক একটি আকর্ষণীয় ব্যতিক্রম

তুরস্কেও হানাফি সংখ্যাগরিষ্ঠতা, কিন্তু দিয়ানাতের সরকারি সময়সূচি আসরের জন্য এক গুণ পরিমাপ ব্যবহার করে। তাই আমাদের সাইট তুরস্কের জন্য হানাফি পরিমাপ প্রয়োগ করে না — করলে ফল সরকারি সময়সূচি থেকে এক ঘণ্টা আলাদা হতো। এটি একটি ভালো উদাহরণ যে ফিকহি সংখ্যাগরিষ্ঠতা আর সরকারি হিসাব সবসময় একই জিনিস নয়।

নিজের সময়সূচি চেনা

আপনার মসজিদের আসর যদি অ্যাপের চেয়ে প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট পরে হয় এবং বাকি চার ওয়াক্ত এক-দুই মিনিটের মধ্যে থাকে, তবে বিষয়টি পরিষ্কার — এটি পরিমাপের পার্থক্য, ভুল নয়। এমন ক্ষেত্রে সাধারণত নিজের এলাকার প্রচলিত রীতি অনুসরণ করাই স্বাভাবিক ধরা হয়।

→ কিবলার দিক — লাইভ কিবলা কম্পাস